
হবিগঞ্জ শহরের একটি হোটেলে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল।
মতবিনিময়কালে কামরুজ্জামান কামাল বলেন, “হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক শুধু দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপার্ক নয়; এটি নারীর ক্ষমতায়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই শিল্পপার্কে সরাসরি ১২ হাজার নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
তিনি জানান, নারী কর্মীরা বিভিন্ন উৎপাদন প্ল্যান্টে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে নারী নিয়োগের হার আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে শিল্পপার্কটিতে মোট প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। শিল্পপার্ক চালুর পর এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন ও সেবাখাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ভবিষ্যতে এই শিল্পপার্কে নারী কর্মীর সংখ্যা ২০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রধান প্ল্যান্ট কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব বলেন, শিল্পপার্কটি শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে না; নারী কর্মীদের জন্য নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতির সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখানে কর্মরত নারী কর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশই স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাকিরা সিলেট, মৌলভীবাজারসহ পার্শ্ববর্তী জেলার।
প্রায় ১ হাজার ১০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কটি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। শিল্পপার্কটিতে বর্তমানে খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিকের গৃহস্থালি সামগ্রী, পারসোনাল কেয়ার, হালকা প্রকৌশল এবং টেক্সটাইলসহ ৫০টির বেশি পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান তৌহিদুজ্জামান, হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মাহাদী হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন