
দেশের উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস দেখা গেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আমদানি ও রপ্তানিতে এক বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি লেনদেন করে ‘বিলিয়ন ডলার ক্লাব’-এ জায়গা করে নিয়েছে দেশি ও বিদেশি মোট আটটি শিল্প গ্রুপ। আগের অর্থবছরে তালিকায় থাকলেও এবছর ছিটকে গেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।
বিশ্লেষণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকৃত আমদানি ও রপ্তানির তথ্য অনুযায়ী তৈরি এই তালিকায় রয়েছে—
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই), প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, বিএসআরএম গ্রুপ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান করপোরেশন।
এই আট শিল্প গ্রুপের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মোট আমদানি–রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ১১ শতাংশ। একই সময়ে এসব প্রতিষ্ঠান সরকারের কোষাগারে দিয়েছে ১৭ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা রাজস্ব এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে সোয়া পাঁচ লাখ মানুষের।
উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে টানা শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। গত অর্থবছরে গ্রুপটির আমদানি–রপ্তানি লেনদেন হয়েছে প্রায় ২৮৩ কোটি ডলার। নতুন কারখানা স্থাপন, শিল্প সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের ফলে কাঁচামাল আমদানির পরিমাণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রুপটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল।
এক বছরের ব্যবধানে দুই ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ। প্রায় ১৯০ কোটি ডলারের লেনদেন নিয়ে গ্রুপটি তৈরি পোশাকের বাইরে বহুমুখী পণ্য রপ্তানিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। গ্রুপটির চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে রপ্তানিতে আরও বড় অগ্রগতি সম্ভব।
ইস্পাত ও ভারী শিল্পে নেতৃত্ব দেওয়া আবুল খায়ের গ্রুপ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় ১৬৮ কোটি ডলারের আমদানি–রপ্তানি লেনদেন করেছে। উৎপাদনক্ষমতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রড, সিমেন্ট ও ঢেউটিন খাতে শীর্ষ অবস্থান আরও সুসংহত করেছে গ্রুপটি।
দক্ষিণ কোরীয় মালিকানাধীন ইয়াংওয়ান করপোরেশন বিলিয়ন ডলার ক্লাবে থাকা একমাত্র বিদেশি শিল্প গ্রুপ। গত অর্থবছরে প্রায় ৯৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ইয়াংওয়ানের চেয়ারম্যান কিহাক সাং বলেন, বন্দরের দক্ষতা ও লিড টাইম কমাতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে।
২০২৩–২৪ অর্থবছরে বিলিয়ন ডলার ক্লাবে থাকলেও ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বসুন্ধরা গ্রুপের লেনদেন নেমে এসেছে ৫১ কোটি ডলারে। ভোগ্যপণ্য ও কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানের প্রভাবেই এই পতন ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আমদানি প্রতিস্থাপক শিল্পগুলো ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করছে। তবে টেকসই শিল্পায়নের জন্য উন্নত বন্দর ব্যবস্থাপনা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
মন্তব্য করুন