
গ্রামের এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে রপ্তানিমুখী জুতার কারখানা ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস। প্রায় সাড়ে ৯ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই কারখানায় বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা। বর্তমানে এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৩ হাজার মানুষের, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী।
কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন দুই ভাই মো. হাসানুজ্জামান ও প্রয়াত মো. সেলিম। একসময় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই দুই উদ্যোক্তা দেশের মানুষের জন্য কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে তারাগঞ্জে এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. হাসানুজ্জামান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্লিং লেদারের তিনটি ইউনিটে পুরোদমে চলছে উৎপাদন কার্যক্রম। মেশিন ও সেলাইযন্ত্রের শব্দে মুখর পুরো কারখানা। শ্রমিকদের বড় অংশ নারী হওয়ায় তাদের কাজ তদারকির জন্য নারী সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যূনতম মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও চিকিৎসা সহায়তাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ভানু রানী বলেন, “গ্রামে বসেই এখন আয় করতে পারছি। নিজের পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্যও সঞ্চয় করছি।”
অন্যদিকে প্যাকেজিং ইউনিটের শ্রমিক আদুরি রানী জানান, ঢাকায় কাজ ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে এসে এখন পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি আয়ও করছেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উৎপাদিত জুতা পোল্যান্ড, তুরস্ক, জার্মানি, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার জোড়া জুতা। সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ৩৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যার ৮০ শতাংশই নারী।
উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে ২০২৪ সালে ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস রূপালী ব্যাংকের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে।
স্থানীয় কুশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হক বলেন,
“ব্লিং লেদার প্রমাণ করেছে—সঠিক বিনিয়োগ ও নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে গ্রামেও শিল্পায়ন সম্ভব।”
গ্রামের অর্থনীতির পাশাপাশি নারীর আত্মমর্যাদা ও স্বপ্ন গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন