চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কার্যক্রমের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে যাত্রা শুরু করল কনফিডেন্স সিমেন্ট। নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ৭৫০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে স্থাপিত নতুন সিমেন্ট কারখানার উৎপাদিত পণ্যের আনুষ্ঠানিক বাজারজাত কার্যক্রম আজ শুক্রবার উদ্বোধন করা হয়েছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর ডাঙ্গা বাজার এলাকায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিত এ আধুনিক কারখানায় জার্মানির ভিআরএম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কারখানাটি নির্মাণে প্রাইম ব্যাংকের নেতৃত্বে একাধিক ব্যাংক অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করেছে।
নতুন কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১৮ লাখ টন এবং দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ৬ হাজার টন। এর ফলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ১২ লাখ টন উৎপাদনক্ষম কারখানাসহ কনফিডেন্স সিমেন্টের মোট বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াল ৩০ লাখ টনে।
করোনাভাইরাসের কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও ২০২০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ২০২২ সালে পুনরায় গতি পায়। গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে কারখানাটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।
কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “নতুন এ কারখানার মাধ্যমে আমরা চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কোম্পানি থেকে সারা দেশের কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করছি। আমাদের স্লোগান— ‘বাংলাদেশের হৃদয়জুড়ে’। ঢাকা ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে এই কারখানার উৎপাদিত সিমেন্ট বাজারজাত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, বাজার জরিপে দেখা গেছে দেশে এখনো মানসম্মত সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে, যা কাজে লাগাতে চায় কনফিডেন্স সিমেন্ট।
কোম্পানি সূত্র জানায়, নতুন কারখানাটি চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় ঢাকার বনানীর শেরাটন হোটেলে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কনফিডেন্স সিমেন্ট কনফিডেন্স গ্রুপের একটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৫ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটি বর্তমানে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত। সর্বশেষ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৯৭ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে।
খাত–সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে বর্তমানে সিমেন্টের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৪ কোটি টন হলেও উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ৮ কোটি টনের। ফলে প্রতিযোগিতা তীব্র হলেও নতুন কারখানার মাধ্যমে কনফিডেন্স সিমেন্টের বাজার ও মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
